ভোকাট্টা ব্লগজিন সংখ্যা ১২
ভোকাট্টা ব্লগজিন সংখ্যা ১১
সোনাঝুরি
অন্বিতা চ্যাটার্জী
একটা বাড়ি বানাবো বুঝলি?
নাম দেব সোনাঝুরি।
কোনো ইঁট-সিমেন্টের বাড়ি নয়,
মুহূর্ত দিয়ে তৈরি করব ওটা,
যাকে অবলম্বন করে বেড়ে উঠবে
আমাদের ইচ্ছেবৃক্ষ।
যেখানে আমাদের ডাকে সন্ধ্যা নামবে,
ঢেকে দেবে তোর রাগের তীক্ষ্ণ আলোকে।
যে বাড়ির আনাচে-কানাচে জন্ম নেবে আমাদের স্বপ্ন,
বেড়ে উঠবে তিল তিল করে।
অভিমানের বৃষ্টিতে ভিজব যখন আমরা,
তুই গল্প বলে শোনাবি 'মেঘবালিকা'-র।
তোর কোলে মাথা রেখে
কাটিয়ে দেব আরেকটি বিনিদ্র রাত।
খুব ঝগড়া করব আমরা,
তুই মজবি রবিশঙ্করে, আমি খুঁজব রাবীন্দ্রিক প্রেম।
তবুও আমরা একটা অন্য গল্প লিখব,
যেখানে ব্যর্থতা থাকবে, সাফল্য থাকবে,
কিন্তু "ছেড়ে যাওয়া" শব্দদুটো এক্কেবারে উধাও।
এইভাবে ভালো-মন্দ বাসায় বেড়ে উঠবে
আমাদের সোনাঝুরি।
© 2020 অন্বিতা চ্যাটার্জী
ভোকাট্টা ব্লগজিন সংখ্যা ১০
কবি চন্দন আচারের লেখা দু'টি কবিতা
কবিতা ১
তুমি আমায় রাত্রি দিলেও নেবো
আছো যখন আলো হয়ে পাশে,
তুমি আমায় সকাল দিলেও নেবো
তোমার হাসি সূর্য হয়ে হাসে।
মাথা তুলে থেকো, তুমি মাথা তুলে রেখো
যেমন করে প্রথম বীজপত্র মাথা তুলে
কচি দুটো হাত বিজয়ী ভঙ্গিমায় তুলে ধরে।
যেমন করে কাণ্ডহীন লতাও
সদাই মাথা তুলতে চায়
সদাই উঠতে চায় আরো উপরে।
মাথা তুলে থেকো, তুমি মাথা তুলে রেখো।
যেমন মাথা তুলে আছে সদাভঙ্গুর প্রাচীন পাহাড়,
যেমন করে তরল ঢেউও মাথা তোলে বারবার।
বা যেমন করে লাগামে বাঁধা ঘোড়া মাথা তোলে
যেমন করে বুকে হাঁটা সদা অবনত সর্প মাথা
তোলে।
যেমন করে আহত পিপীলিকাও মাথা তুলে
সহস্রগুণ শক্তিশালী প্রতিপক্ষকে প্রতিবাদ
জানায়।
কবিতা ২
আমার হৃদয়ে বাড়তে থাকা
গাছ ছুঁয়েছে আকাশ
আজ
তার পাতার কোলে ফুলের কুঁড়ি
কুঁড়ির
অন্তরে ফুলের সুবাস।
আমার হৃদয়ের ছোট্ট সে নদী
এখন অনেক বড়ো, অনেক আঁকাবাঁকা
নৃত্যময় শরীরে সাগর খোঁজার উচ্ছলতা।
আমার বারণ শোনার মতো ছোটো নেই সে নদী
আজ তার পাড় ভাঙার নেশা দুর্নিবার।
আমার হৃদয়ে গান গাওয়া পাখি
বাসা বুনেছে কয়েকদিন হলো।
আজ তার “প্রিয়া” “প্রিয়া” ডাকে
মাতাল আমার মনের আকাশ।
আমি একটি কিশোরী কুঁড়ি খোঁপায় গুঁজে
নদীতে পা ডুবিয়ে বসে বসে
ঐ পাগল পাখির গান শুনি
বেলা-অবেলা।
আমার হৃদয়ে বাড়তে থাকা গাছ ছুঁয়েছে আকাশ
আজ তার পাতার কোলে ফুলের কুঁড়ি
কুঁড়ির অন্তরে ফুলের সুবাস।
আমার হৃদয়ের ভার এ পৃথিবীর চেয়েও ভারী
তবুও এক লহমায় আমি পাহাড় ডিঙোতে পারি।
© 2020 চন্দন আচার
ভোকাট্টা ব্লগজিন সংখ্যা ৯
প্রতীক্ষা
প্রীতি মাইতি
হ্যাঁ,
নিঃসঙ্গতা কাটাতে তোমার কাছে আসা।
সুখে
দুঃখে তোমায় কাছে পাওয়া।
সুদূর
প্রান্ত থেকে যখন তোমায় খুঁজেছি,
এসেছো
নিজের মত করে আগলে রেখেছ
কঠোর
জীবন থেকে সরিয়ে প্রকৃতির কোলে আশ্রয় করে দিয়েছো।
ঋণী,
সত্যিই ঋণী তোমার কাছে।
তাই,
অগোচরে নিজের এক সত্তা তোমায় বিলিয়ে দিয়েছিলাম।
তুমিও
বেশ ভালোবেসে তা গ্রহণ করে আমায় ভিজিয়ে পরিপূর্ণ করেছো।
বড়ো
হলাম, তোমায় আরও আষ্টেপৃষ্ঠে ধরলাম।
সংসার
পাতলাম আমার ঘরের ছোট্ট বারান্দায়।
সুখী
সংসার আমাদের-
মন
খারাপের সময়,
যখন
আমি অগোছালো থাকি;
উষ্ণতার
তুলি দিয়ে তুমি তখন নিজের মত আঁকিবুকি টেনে গোছাও আমায়।
মনে
হয়, আমার জন্যই তোমার সৃষ্টি ।
কিন্তু,
হঠাৎ
একদিন বাস্তব এসে তোমার রূপ দেখায়।
তুমি
আমার হাত ধরছো তো অন্যের সংসার ভাঙছো,
আবেশে
জড়িয়ে ধরছো আমায় তো অন্যকে ছারখার করছো।
মুখ
ফেরালাম অবশেষে।
আমার
জন্য নয়, তুমি এসেছো এখন, আসবে আবার তোমার নিয়মে।
চাইলে
আপন করে নিও, থেকো আমার সাথে
দূর
থেকে থাকব তোমার প্রতীক্ষাতে।
© 2020 প্রীতি মাইতি
ভোকাট্টা ব্লগজিন সংখ্যা ৮
সভ্যতার
বর্বরতা
শিবম মাইতি
নিভে
যাওয়া আগুনের শুকনো কালি
পাহাড়
হয়ে থাকা জঞ্জালের স্তূপের মতই,
পরিস্কার
কাচের মত, কোনদিন মিথ্যা বলেনি।
মৃত
আগুনের পর ধূসর, কালো, নির্বাক কালি
আমার
কাছে সহজ, স্বচ্ছ সাদা।
সে
দেখিয়েছে সভ্যতার আলোয়
জ্বলতে
থাকা উজ্জ্বল, চকচকে মুখোশের পেছনে
সভ্য
সমাজের বেহায়া, বর্বর, অশ্লীল, অমার্জিত রূপ।
তাই
মিথ্যা বহুরূপী পৃথিবীর বুকে
সভ্যতাকে
পাল্লা দিতে,
একা
জঞ্জালের স্তূপটাই মাথা তুলে দাঁড়িয়ে।
তার
সুস্পষ্ট, সুগন্ধি, বিকট সুবাস আমার শরীরে
সে
যেমন সে তেমনি ...
তার
শরীরে কোন কাপড় নেই ...
©
2020 শিবম মাইতি
ভোকাট্টা ব্লগজিন সংখ্যা ৭
বুড়ো নারকেল গাছ আর তার সঙ্গীরা
কুন্তল বর
জানলার
পাশের নারকেল গাছটার পুরোনো স্বভাব, কথা নেই বার্তা নেই, যখন তখন দুম করে এক একটা ডালা
খসিয়ে ফেলে। তা, এমনই চলে আসছে আজ বহুবছর ধরে। কিন্তু বেশ এই কয়েকমাস হল দেখছি গাছটা
আর দুমদাম ডালা খসায় না। এইত্তো সেদিন কী একখানা ঝড় হল, ডালা দূরে থাক, কই একখানা পাতাও
তো ঝরেনি! গাছটার লাগোয়া ওদের বাড়ির বক্স জানলার
শেডে প্রায় একটা ইয়া সাইজের প্যাঁচা দেখতাম। দিনের বেলা কাকের হাত থেকে রেহাই পেতে
গাছের পাতা আর বাড়ির আড়ালে চুপচাপ ঘাপটি মেরে বসে থাকত। তাকেও তো দেখিনা আজকাল। গাছটার
প্রায় মাঝামাঝি রোজ একটা কাঠঠোকরা এসে ঠুকঠাক করে আশেপাশের চারটে ঘরের প্রায় দু’ডজন
লোকের কানের বারোটা বাজাতো, একাই! বেশ জুতসই একখানা গর্ত করেছিল, এখনও দেখি গর্তটা
আছে। শুধু কাঠঠোকরা টা বসে নেই। চারঘরে বেশ শান্তিও আছে দেখি। চারটে কাক ঘুরে বেড়াতো
এই চত্বরে। এখন তদেরও টিকি পাওয়া যায় না। কাঠবেড়ালি গুলো আর গাছটার ধারেকাছে বিশ্রাম
নেয় না। তবুও বেশ দিব্যি দাঁড়িয়ে আছে গাছখানা!
©
2020 কুন্তল বর
ভোকাট্টা ব্লগজিন সংখ্যা ৬
মেহবুব গায়েন এর কবিতা
১.গোলাপ পৃথিবী
যে
রাত আলোর সঙ্গে হারিয়েছিল,
বর্ষা
চারপাশ শূন্য শব্দ
গোলাপ
পৃথিবীর সঙ্গে যুদ্ধ তোমার-আমারও
পাক
খাই
থুবড়ে
পড়ি শৈশব আঁধার,
ফিরি
তুমি ও আমি কোন এক হারানো চাঁদ পথে...
2.অসমাপ্ত আকাশ
পুড়িয়ে
দাও আমাকে দর্শন আগুনে
ছাইগুলো
উড়ে যাক বাতাসে,
ফাগুনের
রং ছিঁড়ে কোমল শরীরে বসাও
জীবন্ত
লাশ কেটে রাখো টেবিলে
আমি
চাঁদ ভাঙি
পূর্ণিমাকে
অসমাপ্ত লিখে অসমাপ্ত আকাশে...
©
2020 মেহবুব গায়েন
প্রকাশিত
কাব্যগ্রন্থ- সাদা সাইকেল
প্রকাশনা
- কবিতা আশ্রম
কলকাতা
বইমেলা ২০২০
ভোকাট্টা ব্লগজিন সংখ্যা ৫
প্রতিবাদী বেগ
সুদীপ্তা মাইতি
প্রতিটি
রিকশাচালক,
একপ্রকার
প্রতিবাদী বেগে চলে।
ঝড়
- বৃষ্টিমাখা রাতে
কিংবা
ঝলসানো রোদে,
যাত্রীসমাজ
বাঁধে তারে
দাম-দরের
গরাদে।
ভোর
- কুয়াশায় চাকা ছোঁয়ায়
স্টেশনে
- স্টেশনে,
লবণ
- মুক্তো গড়িয়ে পড়ে
নগ্ন
পা -এর পানে।
প্রতিটি
রিকশাচালক,
একপ্রকার
প্রতিবাদী বেগে চলে।
©
2020 সুদীপ্তা মাইতি
ভোকাট্টা ব্লগজিন সংখ্যা ৩
রইলাম প্রতীক্ষায়
কানহার পথে |
![]() |
"মিনিট পাঁচেক ড্রাইভ করার পরেই আমরা ছোপধারী শিকারীকে দেখলাম"(চিতাবাঘ) |
৯৮০ বর্গ কিলোমিটারের কোর জোন এবং ১,৯৪৯ কিলোমিটার বাফার এরিয়া জুড়ে শাল, তেন্দু, বাঁশ, জাম আর পলাশে সাজানো কানহার অন্দর। ১৯৬৫ সালে সরকারিভাবে সংরক্ষিত হওয়ার পর ১৯৭২ সালের বন্যপ্রাণ সংরক্ষণ আইন বা Wildlife Protect Act অনুসারে এই জাতীয় উদ্যান ১৯৭৩ সালে Project Tiger এর আওতায় আসে এবং ব্যাঘ্র সংরক্ষিত অঞ্চলের (Tiger Reserve) স্বীকৃতি পায়। কানহার শুষ্ক পর্ণমোচী অরণ্যরাজি ছড়িয়ে রয়েছে মধ্যপ্রদেশের মাণ্ডলে এবং বালাঘাট জেলায়। মাঝে বয়ে চলেছে সাদা-কালো হাঁলো ও বানজার নদীর অববাহিকা। জাতীয় উদ্যানের স্বীকৃতি পাওয়ার পরই বিতর্ককে সঙ্গী করে জঙ্গলের ভেতরে ছড়িয়ে থাকা প্রায় তিরিশটি বাইগা ও গোন্দ উপজাতির গ্রাম উচ্ছেদ করে নিয়ে আসা হয় জঙ্গলের বাইরে। ছিন্নমূল হন বহু মানুষ। ঠুঠা বইগা আর বিরজু বইগারা হয়তো তাদের উত্তরপুরুষের মধ্য দিয়ে আজও খুঁজে বেড়ায় তাদের আদিভূমি!
![]() |
সম্বরের পিঠে শালিক |
![]() |
শিং বাহার |
![]() |
নয়না |
![]() |
সোনালী ঊষার ছোঁওয়ায় |
© 2020 প্রতীক মহাপাত্র
ভোকাট্টা ব্লগজিন সংখ্যা ২
বারিধারা
অন্বিতা চ্যাটার্জী
কোনো এক
নামহীন,অগোছালো সন্ধ্যা-
আমার মনের
গন্ডি পেরিয়ে
তোর নিঃশব্দ
পদার্পণ,
সাদরে বরণ
করলাম তোকে।
বাইরের
অবিশ্রান্ত ধারায়
কত পুরোনো
ইতিহাস ধুয়ে যাচ্ছে,
কত-শত প্রতিশ্রুতিরা
ভিজে চলেছে অক্লান্তভাবে...
শরীরের
প্রত্যেকটা তার তোর স্পর্শে
ধ্বনিত
হল-
কোনো নতুন
রাগের সৃষ্টিতে।
উন্মাদ
হলাম আমরা-
বৃষ্টির
জল ধুয়ে দিল
শরীরের
সমস্ত ক্ষত।
এখনও আমরা
ভিজছি,ভিজে চলেছি,
কোনো এক
নতুন সৃষ্টির সন্ধানে।
© 2020 অন্বিতা চ্যাটার্জী
ভোকাট্টা ব্লগজিন সংখ্যা ১
স্নেহ
ধৃতিপর্ণা সামন্ত
সে বাবার
মতোই স্নেহশীল,
কিছুটা
মায়ের মতো ও।
আসলে 'স্নেহের'
ওরকম লিঙ্গনির্ধারণ ঠিক নয়।
'স্নেহ'
স্নেহই হয়।
যত বয়স
বাড়ছে, অনুভূতির নিব ভোঁতা হচ্ছে।
স্নায়ুতন্ত্র
দিনদিন অক্ষম হচ্ছে 'ভালোবাসা' বস্তুটির পরশ নিতে।
কিন্তু,
বড়ো লোভ তার।
আশেপাশের
আদরকণা শুষে নিতে চায় সে।
ব্যাটা
বোঝে না --'যা তোর প্রাপ্য নয়, তার পেছনে দৌড়ে লাভ নেই।"
ফুরিয়েছে
খড়ের নৌকো-রঙ্গন-ফুরুসের দিন।
তাই, ঢাকে
কাঠি পড়লেও মন সেই শিথিল-উদাসীন।
যখন, প্রজাপতির
ডানার রঙ মাখতাম আর হৈহুল্লোড়ে বউ-বসন্ত,
তখন ও সে
এরকমটাই ছিল-
বাবার মতোই
স্নেহশীল,
কিছুটা
মায়ের মতো ও।
আসলে 'স্নেহের'
ওরকম লিঙ্গনির্ধারণ ঠিক নয়।
© 2020 ধৃতিপর্ণা সামন্ত
প্রকাশিত হলো ভোকাট্টা ব্লগ
প্রকাশিত হলো ভোকাট্টা ব্লগ। আপনারা কবিতা পাঠান আমাদের। আমরা প্রকাশ করবো ভোকাট্টা ব্লগে।
নিয়মাবলী –